গাজীপুরের শ্রীপুরে গর্ভবতী পোশাকশ্রমিক লিজা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা আবারও সহিংস রূপ নিয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) সকালে উপজেলার টেপিরবাড়ী এলাকায় কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড কারখানার সামনে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে শিল্প পুলিশ ৩ রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ এবং ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। এতে অন্তত ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে শ্রমিকরা দাবি করেছেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, নিহত লিজা আক্তারের স্মরণে আয়োজিত মিলাদ মাহফিলে যোগ দিতে সকালে ব্লু প্ল্যানেট গ্রুপের আওতাধীন বদর স্পিনিং মিলস ও কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেডের শ্রমিকরা কারখানার সামনে জড়ো হন। এ সময় সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিকদের ভাষ্য, একপর্যায়ে লাঠিসোঁটা হাতে কয়েকজন বহিরাগত শ্রমিকদের সঙ্গে মিশে কারখানায় প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিচার্জ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে। শ্রমিকদের দাবি, আহতদের মধ্যে বদর স্পিনিং মিলসের শ্রমিক আল-আমিনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে কারখানার সামনে ও আশপাশের এলাকায় সহস্রাধিক শ্রমিক অবস্থান নেন। কারখানার ভেতরেও বিপুল সংখ্যক শ্রমিক ছিলেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করলে শ্রমিকরা ধীরে ধীরে সেখান থেকে সরে যান।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর আলম বলেন, সকালে শ্রমিকদের মধ্যে কিছুটা অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে শিল্প পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২, গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩ রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং শ্রমিকরা কারখানার সামনে থেকে সরে গেছেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতের শিফটে কাজ করার সময় কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেডের সুইং অপারেটর লিজা আক্তার (৩৬) হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান। সহকর্মীদের অভিযোগ, গর্ভবতী লিজা অসুস্থতার কারণে ছুটি চাইলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তাকে ছুটি দেয়নি। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা আশপাশের কয়েকটি কারখানায় ভাঙচুর চালান।
এ ঘটনায় ট্রিপল অ্যাপারেল লিমিটেড, এমএইচসি অ্যাপারেল প্রাইভেট লিমিটেড এবং ইয়াসমিন টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে। মামলাগুলোতে মোট প্রায় ১,১০০ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করা হয়েছে। এরই মধ্যে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার পর থেকে শ্রীপুর শিল্পাঞ্চলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।