গভীর রাত চারদিকে নিস্তব্ধতা। হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে একটি বসতবাড়ি। ঢেঁকি দিয়ে দরজা ভেঙে মুহূর্তেই ঘরে ঢুকে পড়ে মুখোশধারী একদল সশস্ত্র ডাকাত। দা ও ছুরি উঁচিয়ে পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে তারা। এরপর শুরু হয় তছনছ, ভয়ভীতি আর লুটপাট। সন্তানদের অপহরণের হুমকি দিয়ে একে একে নিয়ে যায় ১৭ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ এক লাখ টাকা, মোবাইল ফোন ও মূল্যবান কাপড়চোপড়। দুঃসাহসিক এ ডাকাতির ঘটনায় গাজীপুরের শ্রীপুরজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়নের পাঁচলটিয়া গ্রামের মো. আব্দুস সামাদ মোল্লার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী আব্দুস সামাদ মোল্লা জানান, বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে গেলে বুঝে ওঠার আগেই ঢেঁকি দিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে চারজন মুখোশধারী ডাকাত ভেতরে প্রবেশ করে। একই সময়ে আরও কয়েকজন ডাকাত বাড়ির চারপাশে অবস্থান নিয়ে পাহারা দিচ্ছিল। ঘরে ঢুকেই দা ও ছুরি দেখিয়ে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে তারা।
তিনি বলেন, ডাকাতরা ঘরের আলমারি, আসবাবপত্র ও মালামাল তছনছ করে স্বর্ণালংকার কোথায় রাখা আছে জানতে চায়। একপর্যায়ে তারা হুমকি দেয়, “যা আছে বের করে দাও, না হলে তোমাদের সন্তানদের তুলে নিয়ে যাব।” প্রাণভয়ে পরিবারের সদস্যরা কোনো প্রতিরোধ করতে পারেননি। পরে ডাকাতরা ১৭ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ এক লাখ টাকা, মোবাইল ফোন এবং মূল্যবান কাপড়চোপড় নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
সামাদ মোল্লার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বলেন, পাশের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তার তিন বোন সন্তানদের নিয়ে বেড়াতে এসেছিলেন। বাড়িতে নারী ও শিশুর সংখ্যা বেশি থাকায় ডাকাতরা সেই সুযোগ নেয়। তিনি বলেন, “মেয়েদের ভবিষ্যতের জন্য গচ্ছিত স্বর্ণালংকারই ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় সম্বল। সবকিছু নিয়ে গেছে। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় চুরি-ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় রাতের নিরাপত্তা জোরদার এবং টহল বৃদ্ধি করা জরুরি।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পাশাপাশি লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারেরও চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে