বরগুনার সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ডেমা গ্রামে প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় গণরোষের মুখে পড়ে নিহত হয়েছেন কথিত কালু বাহিনীর প্রধান ইব্রাহিম হোসেন কালু (৩০)। এ ঘটনায় তার সহযোগী তৌহিদ ইসলাম শুভ (২২) গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৫টার দিকে ডেমা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কালু ডেমা গ্রামের সোনা গাজীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে মাদক, ডাকাতি, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত ১৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আহত শুভ একই গ্রামের রহিমের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কালু বাহিনীর বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ ছিল। স্থানীয়দের দাবি, এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিকেলে কালু ও তার সহযোগীরা ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কালু ও তার সহযোগী শুভকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। এতে দুজনই গুরুতর আহত হলে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে বরগুনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইব্রাহিম হোসেন কালুকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত শুভকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আহত ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফাও।
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অস্ত্র মামলায় কালুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে সময় তার কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়। প্রায় চার মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরে তিনি আবারও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি এবং কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে। এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।