বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারী হাসপাতালে মারা গেছে।
বগুড়ার শিবগঞ্জে জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীকে বহনকারী গাড়ির ধাক্কায় আহত ফিরোজা বেগম (৫৫) নামে এক নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বগুড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত ফিরোজা বেগম শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত নিজাম উদ্দিনের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে মোকামতলা-জয়পুরহাট সড়কের কিচক ইউনিয়নের গোপীনাথপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা থেকে তার নির্বাচনী এলাকা জয়পুরহাট-২ আসনের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন।
পথে গোপীনাথপুর এলাকায় সড়ক পার হওয়ার সময় ফিরোজা বেগম হঠাৎ দৌড়ে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করেন। তাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। একপর্যায়ে গাড়িটি সড়কের পাশের ধানক্ষেতে গিয়ে পড়ে।
এতে প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী ও তার স্ত্রী সামান্য আহত হন। পরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। একই ঘটনায় সড়ক পার হওয়ার সময় আহত হন ফিরোজা বেগম।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। তবে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দুপুরের দিকে তিনি মারা যান।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা থেকে জয়পুরহাটের দিকে যাচ্ছিলেন। গোপীনাথপুর এলাকায় এক নারী হঠাৎ সড়ক পার হওয়ার চেষ্টা করলে তাকে রক্ষা করতে গিয়ে গাড়িচালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এতে গাড়িটি সড়কের পাশের ধানক্ষেতে পড়ে যায়।
ওসি আরও জানান, দুর্ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী ও তার স্ত্রী সামান্য আহত হয়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত নারী ফিরোজা বেগমকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, নিহতের মরদেহ বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, ফিরোজা বেগমের মরদেহ হাসপাতালে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে উপস্থিত রয়েছেন। পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে এবং এ ঘটনায় কারও কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
নিহত ফিরোজা বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।