গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের বোর্ড বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার নামাজের সময় দানের আড়ালে জাল টাকা চালানোর চেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করেছেন মুসল্লিরা। শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
আটক ব্যক্তি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার কাওয়াতুল গ্রামের মৃত ফুল মিয়ার ছেলে হানিফ মিয়া। বর্তমানে তিনি ঢাকার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার পূর্ব নাখালপাড়া এলাকায় বসবাস করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুমার নামাজ শুরুর আগে হানিফ মিয়া মসজিদে দুটি ৫০০ টাকার নোট দিয়ে ২০০ টাকা দান করতে চান এবং বাকি ৮০০ টাকা ফেরত নেওয়ার অনুরোধ করেন। তবে তার আচরণ ও কথাবার্তায় সন্দেহ হলে এক মুসল্লি নোট দুটি পরীক্ষা করেন। পরে উপস্থিত আরও কয়েকজন নোট যাচাই করে নিশ্চিত হন যে সেগুলো জাল।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই মসজিদে উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তকে আটক করে গাছা থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয় এবং থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় মসজিদের মুয়াজ্জিন বাদী হয়ে গাছা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওয়াহিদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটক ব্যক্তির কাছ থেকে সাতটি ৫০০ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসী বলেন, পবিত্র জুমার নামাজের সময় মসজিদের মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে জাল টাকা দিয়ে প্রতারণার চেষ্টা শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রতিও চরম অবমাননা। তারা এ ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনার পর এলাকায় জাল টাকার বিস্তার ও প্রতারণা চক্রের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, জাল নোটের উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত সম্ভাব্য চক্রকে চিহ্নিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও গভীর তদন্ত প্রয়োজন।